Wednesday, May 26, 2021

কোরানের গভীরে দৃষ্টি ও কুরানী বিশ্লেষণ, পর্ব- 2

 

কোরানের গভীরে দৃষ্টি  ও  কুরানী বিশ্লেষণ, পর্ব- 2

আচ্ছা পাঠক, আপনি কি পর্ব- 1 পড়েছেন?? কেমন লেগেছে আপনাকে?? আমাকে গালা-গালি করেছেন তো?? হায় আল্লাহ, আমাকে গালা-গালি করেন নি?? যান, তাহলে আপনার সঙ্গে কথা বলব না!! আচ্ছা, মনে রাখবেন অবশ্যই- এর পর থেকে যেন মন খুলে গালা গালি করা হয়!! মনে থাকবে তো??

যাইহোক, আপনি হয়ত গালা-গালি করেন নি, কারণ আপনি তো ইসলামের অনুসারী এবং মুসলিম। তবে আহলে কোরান, আহলে হাদীস, সালাফী ও হানাফী ইত্যাদি ধর্মের অনুসারী আমাকে প্রতিনিয়ত গালা গালি করতেই থাকেন!!
আসলে গালা-গালি করাটাই স্বাভাবিক, না করাটা অস্বাভাবিক। কারণ, তাদের আহলে কোরান, আহলে হাদীস, সালাফী ও হানাফী ইত্যাদি ধর্ম গুলো‌র ধ্বংসের কারণ যে এই হোসেন কুরানী!! তাই না??
সুতরাং পাঠক, এখন আমরা তাদের অর্থাৎ আহলে কোরান, আহলে হাদীস, সালাফী ও হানাফী ইত্যাদি ধর্মের অনুসারীদের মন্তব্য ও ইসলামের অনুসারীদের অর্থাৎ মুসলিমের কয়েকটি মন্তব্য তুলে ধরব, তবেই আমাকে সহজে মূল্যায়ন করতে পারবেন। দেখুন-
১) আহলে হাদীস‌দের নিয়ে তোর এত চুলকানি কেন রে মাদারচো★?? কোনও আহলে হাদীস তোর মাকে ধর্ষণ করে ছিল না কি?? খান★র ছেলে তুই জানিস না যে, আহলে হাদীস‌ই হল একমাত্র- নাজাত প্রাপ্ত ফিরকা বা দল??
২) সামসুদ্দিন মন্ডল ভাই তার এক বন্ধু সেখ জাফর ইসলামের একঠি মন্তব্য পাঠিয়েছেন এবং তা হল- এই হোসেন কুরানী একটা কাফির। এই শালা জ্বীনে ধরা অস্বীকার করেছে, হাদীস অস্বীকার করেছে, সুদ হালাল করেছে, বিবাহ পূর্ব প্রেম হালাল করেছে এবং নিজেও হানী নামের একটা মেয়ের সঙ্গে প্রেম করত- তাই সে তো ব্যাভিচারী, তার সম্পর্কে আলোচনা করাটা, সময় নষ্ট করা ছাড়া কিছু নয়!!
৩) সাহাবুল মল্লিক বলেছেন- হোসেন ভাই, আমি বুঝতে পারছি না যে, কিছু মানুষ আপনার দুর্নাম এবং বদনাম করে কেন!! আমি কখনও দেখি নি যে, আপনি ইসলামের বিরোধিতা করেছেন বরং সদা-সর্বদা আপনি আসল ইসলাম তুলে ধরেন কিন্তু তবুও আপনার দুর্নাম এবং বদনাম করে কেন ভাই??
৪) সুমাইয়া খাতুন বলেছেন- Dear hossen qurani sir, আমি ও আমার Boyfriend আপনার অনেক বড় ভক্ত এবং আপনাকে Greatest islamic scholar মনে করি। কেননা, আপনার থেকে আমরা রাসুল (সা)- এর রেখে যাওয়া ইসলাম শিখতে পারি/ পারছি- এর জন্য আপনার কৃতজ্ঞ। কারণ, আসল ইসলাম যে সর্বোচ্চ- তা আপনার থেকে জানতে ও বুঝতে পেরেছি।
৫) যারা বলেন, তারা ঠিক‌ই বলেন যে- মানুষের চিন্তা ভাবনা যেখানে শেষ হয়ে যায়, হোসেন কুরানী তারপর থেকে শুরু করতে পারেন!! এই লেখা (পর্ব- 1) তার‌ই প্রমাণ বহন করছে। আমাদের সম্মানিত হারামখোরগণ সূরা ফাতিহা সম্পর্কে তো এই ভাবে কখনও ভাবেই নি। জানি না, আগামী‌তে আরও কত নতুন-নতুন তথ্য পাব‌!!
৬) সুদূর আসাম থেকে Dr. হাদী হাসনুল ইসলাম ভাই বলেছেন- These articles of so height are not for understanding of common people of any religion. No doubt, it will take more time to understand but on the otherhand can not deny also with Science and logic. Allah May help us in the correct way in due time. We love Hossen Qurani for his bold step in this very sensitive issue.
সুধী পাঠক, এখন আমি 1'ম জনকে বলব- আমার কোনও চুল-কানি নেই রে ভাই, আপনি শুধুমাত্র নাবী (সা) মুখ থেকে اهل الْحدیث‎‎ (আহলুল হাদীস) শব্দদ্বয় উচ্চারিত হয়েছে মর্মে ছোট্ট একটি প্রমাণ দিন, তাহলে আমিও আজ থেকে নিজেকে اهل الْحدیث‎‎ (আহলুল হাদীস) বা اهل حدیث‎‎ (আহলি হাদীস) বলে পরিচয় দেব- ইনশাআল্লাহ।
বলে রাখতে চাইব- আহলে হাদীস শব্দটি আরবি শব্দ নয় বরং ফার্সি শব্দ, তা এই যে- اهل حدیث‎‎ (আহলি হাদীস), যদি তা আরবি শব্দে হারফে লেখা যায়, যেমন আমরা লিখলাম!!
উক্ত শব্দ দ্বয়ের আরবি প্রতিশব্দ হবে- اهل الْحدیث‎‎ (আহলুল হাদীস), যা নাবী (সা)- এর মুখ দিয়ে কখনও বের হয় নি এবং 114 টি সূরার‌ও কোথায় ব্যবহৃত হয় নি, তবে সূরা যদি 115 টি করা সম্ভব হয়, তখন পাওয়া যেতে পারে!!
এখন আমার ছোট্ট প্রশ্ন- ভাই, যে শব্দ দ্বয়ের উল্লেখ আল্লাহ করেন নি, রাসুল (সা) করেন নি, আপনি সেই শব্দ দ্বয় দ্বারা নিজের পরিচয় দিচ্ছেন কেন?? অথচ আল্লাহ বলেছেন- وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ অনুবাদ হবে এমন-"এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যু বরণ কর‌ও না"(3:102)। আরও বলেছেন-
وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ●
অনুবাদ হবে এমন-"এবং কার কথা উত্তম হতে পারে তার চেয়ে যে, সবাই‌কে আল্লাহর দিকে ডাকে ও সৎকর্ম করে এবং বলে- নিশ্চয় আমি মুসলিম"(41:33)।
আর এই যে Mr হারামখোর আহলে কোরান, আহলে হাদীস, সালাফী, হানাফী ও অন্যান্য ধর্মের অনুসারী এবং সেই নামে পরিচয়দাতা!! আপনার উদেশ্যে পবিত্র কোরানে আল্লাহ কি বলেছেন, দেখুন-
وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ●
অনুবাদ হবে এমন-"এবং যে কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোনও দ্বীন বা জীবন পরিচালনা পদ্ধতি গ্ৰহণ করতে চায়, তা গ্ৰহণ করা হবে না এবং সে আখিরাতে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত"(3:85)। এবার আল্লাহর বিশেষ নির্দেশ‌টা দেখুন- فَهَلْ أَنْتُمْ مُسْلِمُونَ অনুবাদটি দেখে হয়ত অবাক হবেন, তা এমন-"এত‌এব তোমরা মুসলিম হবে কি"(11:14, 21:108)??
যাইহোক ভাই, চুলকানি আমার ও আমাদের নয় বরং আপনাদের হবে। আর আপনার ধর্মের ধ্বংসের দিন গণনা শুরু করুন। দেখুন, আল্লাহ আপনার ধ্বংসের দিন সম্পর্কে পবিত্র কোরানে কি বলছেন-
هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَىٰ وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ●
অনুবাদ হবে এমন-"তিনিই [আল্লাহ], যিনি তার রাসুল কে পাঠিয়েছেন পথনির্দেশ [কোরান] ও সত্য দ্বীন সহ। যেন তা [ইসলামকে] তিনি বিজয়ী করেন সমস্ত [বিকৃত ও মনগড়া। যেমন- আহলে কোরান, আহলে হাদীস, সালাফী, হানাফী এবং অন্যান্য ধর্মের] দ্বীনের উপর"(9: 33, 48:28, 61:9)।
যাইহোক ভাই, এ বিষয়ে পরে কখনও বিস্তারিত লেখা হবে ক্ষণ। আপাতত বলে রাখতে চাই- أَصْحَابُ الْحَدِيثِ (আসহাবুল হাদীস) শব্দ‌ দ্বয়ের যে হাদীসটা তিরমিযী‌র কিতাবুল ফিতানের 2192 এ আছে, তা আল্লাহর রাসুল (সা)- এর মুখ দিয়ে বের হয় নি বরং তা ইমাম বুখারীর উস্তাদ আলী ইবনুল মাদিনীর। আচ্ছা, এখন এবার দেখুন- ‏‏‏‏‏‏قَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ- ‏‏‏‏‏‏هُمْ أَصْحَابُ الْحَدِيثِ অর্থাৎ আলী ইবনুল মাদিনী বলেছেন- তারা أَصْحَابُ الْحَدِيثِ (আসহাবুল হাদীস) বা হাদীস চর্চাকারি/ ধারনকারিদের দল। এবার সম্পূর্ণ হাদীস‌টা দেখুন-
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ:‏‏‏‏ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ- إِذَا فَسَدَ أَهْلُ الشَّامِ فَلَا خَيْرَ فِيكُمْ، ‏‏‏‏‏‏لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي مَنْصُورِينَ لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ●
এটা হল মূল হাদীস। যা, নাবী (সা)- কথা যেখানে এই هُمْ أَصْحَابُ الْحَدِيثِ (হুম আসহাবুল হাদীস) শব্দ 3 টি আসে নি। এই হাদীসের ব্যাখ্যায় ইমাম তিরমিযী বা আবু ঈশা (র) ইমাম বুখারী ও তার উস্তাদ আলী ইবনুল মাদিনী (র)- এর কথা Quote করেছেন। দেখুন-
قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيل، ‏‏‏‏‏‏قَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ- ‏‏‏‏‏‏هُمْ أَصْحَابُ الْحَدِيثِ، ‏‏‏‏‏‏...وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ●
অর্থাৎ মুহাম্মদ ইবনু ইসমাইল (র), আলী ইবনুল মাদিনী (র) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তারা হল- তারা হাদীস চর্চাকারি/ ধারনকারিদের দল। তারপর ইমাম তিরমিযী বা আবু ঈশা (র) হাদীসের মান নির্নয় করেছেন ও বলে ছেন- وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ অর্থাৎ এই হাদীস‌টি হাসান এবং সাহীহ।
2'য় জনকে বলতে চাইব- ভাই, আমি সুদ হালাল করি নি, মুসলিম সমাজকে ধ্বংস করার জন্য আপনারা যে সব হালাল লেন-দেনকে সুদের অন্তর্ভুক্ত করে হারাম করে দিয়েছিলেন, শুধুমাত্র সে গুলোকেই হালাল করে দিয়েছি, সুদ তো হারাম এবং তা হারাম‌ই!! বিস্তারিত নিচের Link এ-
এবার জ্বীনে ধরার ব্যাপারে বলি, হ্যাঁ?? ভাই, আমি তো খোলা Challenge করেছি যে, যদি কেউ কোরান ও হাদীস (তৎসংলগ্ন সাহীহ ও হাসান) এবং বিজ্ঞান দ্বারা জ্বীনে ধরা প্রমাণ করে দিতে পারে, আমি/ আমার Team Quranic universe তাকে তার সম ওজনের সোনা উপহার দেব- ইনশাআল্লাহ। সুতরাং আমাকে কাফির ফাতুয়া না দিয়ে জ্বীনে ধরা প্রমাণ করে দিলেই তো হয়!! বিস্তারিত Link এ-
কিন্তু সেই আউকাত তো আপনাদের নেই, এ জন্য পিছনে ঘেউ-ঘেউ‌ই করতে পারবেন। এবার বিবাহ পূর্ব প্রেমের বিষয়ে বলি, হ্যাঁ?? আররেহ ভাই, আপনি হারাম প্রমাণ করে দিন না, তাহলেই তো হয়!! যান, কিয়ামত পর্যন্ত সময় থাকল!! তবে আমি হালাল প্রমাণ করে‌ছি কিন্তু!! বিস্তারিত জানতে Link এ Click করুন-
এবার হাদীস অস্বীকার প্রসঙ্গে বলি, হ্যাঁ?? হাদীস অস্বীকার করে সাধারণত আহলে কোরান ধর্মের মানুষ জন, আমি নয়। কেননা আমি মুসলিম এবং আমি তো শুধু কোরান বিরোধী সাহীহ ও হাসান হাদীস গুলো‌ই অস্বীকার করেছি। কেননা, নাবী (সা) কোনও ভাবেই কোরানের বিপক্ষে যাবেন না!! তাই নয় কি?? বিস্তারিত Link এ-
3'য় জনকে বলব- তারা কেন আমার দুর্নাম-বদনাম করে, তা তো তারাই ভাল বলতে পারবে। তবে আমার মনে হয়- أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ অনুবাদ হবে এমন-"তাদের বেশিরভাগ‌ই [সত্য‌টা] জানে না"(31:25)। আর নয়ত হতে পারে- بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَا يَفْقَهُونَ অনুবাদ হবে এমন-"তারা নির্বোধ সম্প্রদায়"(9:127)।
সুধী পাঠক, এবার কি তাহলে কোরানের গভীরে দৃষ্টি পাত করতে চান?? তাহলে কি এখন এগিয়ে যাব?? কি বলেন পাঠক?? এগিয়ে যাব কিন্তু মনে রাখবেন- গত পর্বে হাজার-হাজার প্রশ্নের উত্তর বাকি রয়ে গেছে।
সেই সমস্ত প্রশ্ন গুলো নিয়ে আসব এবং সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেব এই পর্ব সহ মোট 98 টি পর্বে। সুতরাং আপনি প্রয়োজনের বেশি মনোযোগ সহ পড়বেন, নয়ত পড়ে আপনার সময় নষ্ট হবে, লিখে আমার!! অন্য ভাবে বললে হবে- আপনার বোঝা হবে কম এবং গোঁজা হবে বেশি!!
প্রশ্ন হবে- আল্লাহ 2:2 আয়াতে ذَٰلِكَ الْكِتَابُ (যালিকাল কিতাবু) অর্থাৎ "সেই গ্ৰন্থ" বললেন কেন?? هَٰذَا الْكِتَابُ (হাযাল কিতাবু) অর্থাৎ "এই গ্ৰন্থ" হতো!! তাহলে কি এটা কোরানের ব্যাকারণ‌গত ভুল??
এ ছাড়াও বলা হচ্ছে- ذَٰلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ ۛ فِيهِ অনুবাদ হবে এমন-"সেই 'গ্ৰন্থ সমূহে' কোন‌ও সন্দেহ নেই"। তা হলে কি এই গ্ৰন্থে (কোরানে) সন্দেহ আছে?? তাহলে কি কোরান আল্লাহ‌র নাযিল‌কৃত গ্ৰন্থ নয়??
পাঠক, আপনি আপনার জানা একজন সম্মানিত হারামখোরের নাম বলুন, যিনি এ প্রশ্নের উত্তর হোসেন কুরানীর আগে দিয়েছেন?? আর হোসেন কুরানী এই প্রশ্নের উত্তর না দিলে, আর অন্য কার‌ও আউকাত আছে কিয়ামতের পূর্বে এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার??
পাঠক, আপনি কি এ প্রশ্নের উত্তর চান?? কত টাকা দেবেন আগে বলুন, তার‌পর উত্তর দেব!! আচ্ছা আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে, বাদ দিন রে ভাই, আপনাকে টাকা দিতে হবে না। এমনিতেই আল্লাহ আমাকে কম দেন নি যে, চাইতে হবে!! ওটা তো মজা করলাম। এখন দেখুন কোরান কি বলছে- إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ الْعَالَمِينَ অনুবাদ হবে এমন-"মহাবিশ্ব সমূহের প্রতিপালক ছাড়া অন্য কারও কাছে আমার প্রতিদান নেই"(26:109, 127, 145, 164, 180)।
যাইহোক, Dialogue অনেক হল, এবার উত্তর দেওয়া উচিৎ। উক্ত আয়াতে كِتَابُ (কিতাবু) কেন ব্যবহার করা হয়েছে, তা তো পর্ব- 1 এ দেখিয়েছি। তাই না?? আমরা দেখিয়ে ছিলাম- কোরান, কোরানের পূর্বে‌র সমস্ত গ্ৰন্থে‌র সমাহার!! তাই না??
আর তা আমাদের নিজস্ব বক্তব্য ছিল না, তার পক্ষে 2-3 টি আয়াত উপস্থাপিত করেছিলাম, তা হল- 5:48, 10:37, 35:31 আয়াত সমূহ। তাই কোরান আমাদেরকে বলছে- সেই 'গ্ৰন্থ সমূহে' কোন‌ও সন্দেহ নেই" অর্থাৎ যে সব গ্ৰন্থ আগেই নাযিল (তাওরাত, যবুর, ইঞ্জিল ইত্যাদি) হয়ে গেছে!!
মানে হল- কোরান সেই 'গ্ৰন্থ সমূহ' বলে প্রকৃত পক্ষে কোরানকেই নির্দেশ করা হচ্ছে। কেননা, পবিত্র কোরান কোরানের পূর্বে নাযিল হ‌ওয়া ঐশী গ্ৰন্থে‌র সমাহার!! কি পাঠক, মাথায় ঢুকল?? ঢুকবে ঢুকবে, এই 99 টি পর্ব একটু উঁচু মানের চিন্তা ধারায় লেখা। বুঝতে চাইলে প্রয়োজনের বেশি মনোযোগ সহ পড়ুন!!
এটা হল- প্রথম উত্তর। দ্বিতীয় উত্তর হল- গোটা পবিত্র কোরানটি একত্রে নাযিল হয় নি, ক্রমে-ক্রমে নাযিল হয়েছে, দেখুন- إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْآنَ تَنْزِيلًا অনুবাদ হবে এমন-"নিশ্চয় আমরা নাযিল করেছি তোমার ক্রমে ক্রমে"(17:106, 76:23)।
তাই এখানে বলা হচ্ছে- সেই গ্ৰন্থ। তারমানে হল- যা নাযিল হয়ে গেছে, যা হতে বাকি আছে। পাঠক, আপনি কি বুঝতে পারছেন?? তবে আমি জানি যে, অনেকেই এখানে 'সেই গ্ৰন্থে‌র' ব্যাখ্যা‌য় বলেছেন- সেই গ্ৰন্থ হল لَوْح مَحْفُوظ (লাওহি মাহফুজ) কিন্তু তা ভুল!!
তবে এই দৃষ্টিতে সঠিক- কারণ‌, আসলে লাওহি মাহফুজ‌ অন্য কিছু নয়, তা হল- ★ ★ ★। আর তা হল আসলে সূরা ★ ★ ★। চিন্তা নয়, সব শেষে বিস্তারিত জানতে পারবেন- ইনশাআল্লাহ!!
সুতরাং এই আয়াতে পবিত্র কোরানকে "এই গ্ৰন্থ" না বলে "সেই গ্ৰন্থ" বলা‌টাই বেশি Meaning full, দর্শনে পরিপূর্ণ তো বটেই। পাঠক, আপনি কি বুঝতে পারছেন কোরান কতটা বিজ্ঞান‌ময়?? তাই হয়ত আল্লাহ পবিত্র কোরানে বলেছেন- وَالْقُرْآنِ الْحَكِيمِ সঠিক অনুবাদ হবে এমন-"বিজ্ঞানময় কোরানের শপথ"(36:2)।
একটা প্রশ্নের উত্তর বাকি আছে, তা হল- কেন পবিত্র কোরান‌কে আল্লাহ ক্রমে-ক্রমে নাযিল করলেন, যদি একত্রে নাযিল করতেন, তাহলে আল্লাহ‌র কি এমন ক্ষতি হতো??
আচ্ছা পাঠক, আপনি কি এই প্রশ্নের উত্তরে অবাক হতে চান?? আপনি কি কোরানের গভীরে দৃষ্টিপাত করতে চান?? আচ্ছা ঠিক আছে, তাহলে এই আয়াতটি দেখুন তো, এখানে উত্তর আছে কি না!! নিন-
وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْلَا نُزِّلَ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ جُمْلَةً وَاحِدَةً ۚ كَذَٰلِكَ لِنُثَبِّتَ بِهِ فُؤَادَكَ ۖ وَرَتَّلْنَاهُ تَرْتِيلًا●
অনুবাদ হবে এমন-"এবং যারা অস্বীকার‌কারি, তারা বলে- কেন তার [নাবী (সা)- এর] উপর একবারে এবং একত্রিত অবস্থায় কোরান নাযিল হল না?? এভাবে এ জন্য করেছি- যেন এ দ্বারা আপনার Mind এ [কোরান] গেঁথে দিতে পারি/ মনোবল/ আত্মশক্তি বৃদ্ধি করতে পারি এবং আমরা পাঠ করেছি, ক্রমে-ক্রমে ক্রমাগত পাঠ করেছি"(25:32)।
পাঠক, আর কিছু বলতে হবে, না কি বুঝে নিয়েছেন পুরোটা?? বলব?? বলি, হ্যাঁ?? শুনুন- পবিত্র কোরান যদি ক্রমে-ক্রমে ও ক্রমাগত নাযিল না হয়ে Complete কোরান যদি একত্রে নাযিল হতো, তাহলে তা মুখস্থ করা অসম্ভব হয়ে যেত। তাই না??
এখন প্রশ্ন হবে- তাহলে আল্লাহ লিখিত ব‌ই আকারে তো কোরান নাযিল করতে পারতেন, তা করলেন না কেন?? তা করলে কি সমস্যা হতো?? পাঠক, আপনি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন?? না পারলে, দেখুন-
وَلَوْ نَزَّلْنَا عَلَيْكَ كِتَابًا فِي قِرْطَاسٍ فَلَمَسُوهُ بِأَيْدِيهِمْ لَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ هَٰذَا إِلَّا سِحْرٌ مُبِينٌ●
অনুবাদ হবে এমন-"এবং যদি আমরা আপনার প্রতি কাগজে লেখা গ্ৰন্থ [কোরান] নাযিল করতাম এবং তারা তাদের হাত দিয়ে তা স্পর্শ করেও দেখত, তাহলেও অস্বীকার‌কারিরা বলত- এটা সুস্পষ্ট যাদু ছাড়া আর কিছুই নয়"(6:7)।
বুঝেছেন?? হ্যাঁ, এটা কিন্তু বেশ বড় সমস্যা, তাই না বলুন?? কারণ, সেই যুগে হঠাৎ বড় কিছু হ‌ওয়া‌কে 'যাদু' বলে ধরে নেওয়া হতো। সুতরাং তখন যদি গোটা পবিত্র কোরান একত্রে নাযিল হতো, তখন কি হতো বুঝতেই পারছেন হয়ত!!
তবে প্রশ্ন হবে- এ ধরণের আপত্তিকর অপবাদ তো সাধারণ ভাবে ওহী দ্বারা কোরান নাযিলের ক্ষেত্রেও তৎকালীন কিছু মানুষ আরোপ করত, সে ক্ষেত্রে কি হবে কুরানী সাহেব??
চিন্তা করছেন কেন, হোসেন কুরানী আছেন, উত্তর‌ও আছে এবং এখনও 120 বছর 10 মাস মতো আছেন। তবে হ্যাঁ, না থাকলে ভিন্ন কথা!! এবার দেখুন- লিখিত বা অলিখিত ভাবে একত্রে কোরান নাযিল হলে, কি সমস্যা হতো!! দেখবেন তো??
দেখুন এবং ধরুন নিন- গোটা কোরান একত্রে নাযিল হল, তখন একটা বড় সমস্যা হতো। পাঠক, আপনি কি বলতে পারবেন- সমস্যা‌টা কি?? সমস্যা‌টা হল- পবিত্র কোরানে মদকে 4 ধাপে হারাম করা হয়েছে।
যদি বর্তমান কোরান‌কে একত্রে নাযিল করা হতো, তা হলে নাবী (সা) কিভাবে বুঝতেন যে, কোন আয়াতের প্রয়োগ কখন করতে হবে?? মানে হল- 4:43 ও 5:90 আয়াতের প্রয়োগ কখন করতে হবে??
্যাঁ, নাবী (সা) প্রয়োজনের বেশি‌ই বুদ্ধিমান ছিলেন, এ বিষয়ে তো কোনও সন্দেহ নেই। কারণ, হোসেন কুরানী যদি এত বুদ্ধিমান হয়ে থাকেন, তাহলে তার নাবী (সা) কত বুদ্ধিমান ছিলেন, তা সহজেই অনুমেয়!!
যাইহোক, বলছিলাম- নাবী (সা) প্রয়োজনের বেশি‌ই বুদ্ধিমান ছিলেন, এ জন্য হয়ত তিনি বুঝে নিতেন- কোন আয়াত কোন আয়াতের পর প্রয়োগ করতে হবে কিন্তু এটা বুঝতে পারতেন না যে, কোন পেক্ষিতে কোন আয়াত প্রয়োগ করতে হবে!!
যেমন, মদ সম্পর্কে 4 টি আয়াত হল- 16:67, 2:219, 4:43, 5:90 আয়াত। এখন হয়ত বলতে পারেন- আল্লাহ বলে দিতে পারতেন!! এ প্রশ্নের উত্তর সহজ- তাহলে আল্লাহ এত বোকামি‌তে যাবেন কেন??
মানে- যদি বলেই দিতে হবে, তাহলে ব‌ই আকারে বা একত্রে কোরান নাযিল করবেন কেন?? তাই এটাই সব চেয়ে ভাল যে, প্রয়োজন অনুযায়ী নাযিল। তাই নয় কি পাঠক?? আর প্রয়োজন অনুযায়ী নাযিলের সুবিধা তো আগেই বলেছি, তাই না??
এ ছাড়াও 1:5 আয়াতে কি প্রার্থনা করা হয়, তা কি ভুলে গেছেন?? দেখুন- اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ অনুবাদ হবে এমন-"আমাদের‌কে দেখান 'সবচেয়ে সহজ' পথ। তাই না?? তাহলে যেমন প্রার্থনা, তার ফল তো তেমনই হবে, না কি??
বুঝতে পারেন নি, তাই না?? দাঁড়ান, বলছি- আমরা প্রার্থনা করলাম যে, আমাদের‌কে দেখান সবচেয়ে সহজ পথ। এই জন্যই আল্লাহ আমাদের‌কে সবচেয়ে সহজ উপায়ে পথ দেখিয়েছেন!! তাই নয় কি??
সুধী পাঠক, আমরা গত পর্বে 18 সংখ্যা‌টির ব্যাখ্যা করছিলাম এবং 5 নং Point লিখতে চাইছিলাম কিন্তু লেখা অনেক বড় হয়ে যাচ্ছিল, তাই আমরা বাধ্য হয়ে লেখা শেষ করে দিয়েছিলাম। তাই না?? আচ্ছা, কি যেন বেশ লিখছিলাম?? মনে নেই আপনার?? দাঁড়ান ভাই, Copy করে এখানে নিয়ে আসি!!
৫) পাঠক, 18 এর আর কি কোনও অর্থ আছে?? কি যে বলেন ভাই, হোসেন কুরানী আছে, 18 এর অন্য কোনও অর্থ থাকবে না, তা কি হয়/ হতে পারে?? কি করে ভাবলেন রে ভাই??
পাঠক, এটাই তো ছিল গো, না কি?? হ্যাঁ, এটাই ছিল কিন্তু তা তো বড় কথা নয়, বড় কথা হল- উত্তর কি হবে!! পাঠক, এখন আপনি কি ভাবছেন, তা তো জানি না কিন্তু উত্তর‌টা আপনাকে চমকে দেবে!!
আমরা জানি- 1 নং সূরা ফাতিহার প্রথম 3 আয়াত শুধুমাত্র আল্লাহর প্রশংসা যুক্ত আয়াত, আর শেষ 4 টি আয়াত আল্লাহর কাছে সবিনয়ে প্রার্থনা!! আপনি কি কখনও তা লক্ষ্য করেছেন??
করবেন‌ই বা কিভাবে!! আপনাকে কি এটা জানান‌ও হয়েছে যে, কোরান হল- গবেষণা‌র সর্ব উৎকৃষ্ট বিষয়?? হয় নি। এ জন্যই আপনি জানেন নি। তবে এ বিষয়ে আল্লাহ বলেছেন-
كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ●
অনুবাদ হবে এমন-"আমরা আপনার উপর কল্যাণময় গ্ৰন্থ [কোরান] নাযিল করেছি, যেন তার আয়াত সমূহ নিয়ে গবেষণা করে এবং তা হতে শিক্ষা নেয় জ্ঞান-বুদ্ধি সম্পন্ন‌রা"(38:29)।
এখানে হাঁসির কথা হল- আমরা কাফির ফাতুয়া পাই শুধুমাত্র কোরান গবেষণা করার জন্যেই!! তবে আল্লাহ বলেছেন- وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ অর্থাৎ তা হতে শিক্ষা নেয় জ্ঞান-বুদ্ধি সম্পন্ন‌রা"(38:29)।
মানে হল- যারা গবেষণা থেকে শিক্ষা নেয় না উপরন্তু কাফির ফাতুয়া দেয়, তারা আর যাইহোক হোক, জ্ঞান বুদ্ধি সম্পন্ন‌ বা أُولُو الْأَلْبَابِ (উলিল আলবাব) নয়। ভুল বললাম?? বলুন, আররেহ বলুন, বলুন না!!
যাইহোক, আমার বলছিলাম- সূরা ফাতিহার প্রথম 3 টি আয়াত শুধুমাত্র আল্লাহর প্রশংসা যুক্ত আয়াত, আর শেষ 4 টি আয়াত সবিনয়ে প্রার্থনা!! তাই তো?? এবার মজা দেখতে চান??
إِيَّاكَ (1) نَعْبُدُ (2) وَ (3) إِيَّاكَ (4) نَسْتَعِينُ (5) اهْدِنَا (6) الصِّرَاطَ (7) الْمُسْتَقِيمَ (😎 صِرَاطَ (9) الَّذِينَ (10) أَنْعَمْتَ (11) عَلَيْهِمْ (12) غَيْرِ (13) الْمَغْضُوبِ (14) عَلَيْهِمْ (15) وَ (16) لَا (17) الضَّالِّينَ (18)।
পাঠক, আমাকে আর কিছু বলতে হবে, না কি বুঝে নিয়েছেন?? আপনি হোসেন কুরানীর পাঠক তো, তা হলে বুঝে নিয়েছেন, বলুন?? বোঝেন নি?? হায় আল্লাহ, তাহলে এতক্ষণ কাকে বোঝালাম রে ভাই??
আমি শুধু-শুধু এত রাত (এখন 3:20 ও 20.02.2021 তারিখ) জেগে লিখছি!! যান, বলব না, এখন ঘুমাব, তা না হলে ফরজে উঠতে পারব না!! সকালে আপনাকে বোঝানোর অপচেষ্টা করব ক্ষণ!!
আররেহ না না, আমরা আপনাকে বলি নি, বলছি তো ঐ বোকা মাল গুলোকে!! আপনি তো আমাদের পাঠক এবং আপনি বুদ্ধিমান, আপনি যেন আবার ভুল বুঝে আমাদের‌কে খারাপ ভাববেন না!!
মানে- الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ অনুবাদ হবে এমন-"সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, [কেননা] তিনি মহাবিশ্ব সমূহের প্রতি পালক"(1:1)। উক্ত Arabic text এ 18 টি হারাফ বা অক্ষর রয়েছে।
যেহেতু 18 টি হারাফের সাহায্য গঠিত আয়াত/ বাক্যে বলা হচ্ছে- সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, [কেননা] তিনি মহাবিশ্ব সমূহের প্রতি পালক। তাই 18 টি শব্দ দিয়ে শেষ 4 টি আয়াতে তার কাছে প্রার্থনা করা হচ্ছে!!
পাঠক, আপনি অবাক হন নি?? কি রে ভাই, এত চমৎকার একটা তথ্য দিলাম অথচ আপনি অবাক‌ই হন নি?? ধূররর ভাই, ভাল লাগে না, যান। মনটাই খারাপ হয়ে গেল!!
্যাঁ, এখানে একটা প্রশ্ন হবে- শেষ 4 টি আয়াত‌ই কেন দেখব?? সন্দেহ নেই যে, প্রশ্ন‌টি কঠিন কিন্তু মনে রাখার বিষয় হল- যেখানে হোসেন কুরানী থাকেন, সেখানে কঠিন বলে কিছু থাকে না!! তাই না পাঠক??
ঠিক আছে, তাহলে দেখুন- শেষ 4 আয়াতে‌ই কেন দেখতে হবে!! এ প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য আপনাকে আবারও দেখতে الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ আয়াতটি। প্রশ্ন হবে- কি আছে এই আয়াতে??
দেখুন- (4) الْحَمْدُ (1) لِلَّهِ (2) رَبِّ (3) الْعَالَمِينَ● এবার বলুন- কিছু বুঝলেন, কেন শেষ 4 আয়াতেই সঙ্গেই 1:1 আয়াতের মিল?? কারণ, 1:1 নং আয়াতের 4 টি শব্দ সংখ্যা‌ই নির্দেশ করছে শেষ 4 আয়াতকে। এবার মাথায় ঢুকেছে?? ঢুকেছে, তাই না বলুন??
আচ্ছা পাঠক, ভাবুন- যদি 25.12.1991 এ হোসেন কুরানীর জন্ম না হতো, তাহলে এই তথ্য আপনাকে কে দিত?? আছে পৃথিবীর উপরে কোনও সম্মানিত হারাম খোর, যে আপনাকে এই তথ্য গুলো দিত??
যাইহোক, মাঝে একটি প্রশ্নের উত্তর বাকি রয়ে গল এবং তা হল- সূরা ফাতিহায় 7 আয়াত আছে, প্রথম 3 আয়াত আল্লাহর প্রশংসা যুক্ত এবং শেষ 4 আয়াত প্রার্থনা যুক্ত। তাই না?? যদিও আমরা গত পর্বে দেখেছি যে, আসলে গোটা সূরা ফাতিহাটাই আল্লাহর প্রশংসা ও আল্লাহর কাছে প্রার্থনার সমাহার!!
কিন্তু প্রশ্ন হবে- প্রথম 3 আয়াত প্রশংসা যুক্ত, শেষ 4 আয়াত প্রার্থনা যুক্ত কেন হল?? কি এমন কারণ আছে এর?? পাঠক, আপনি কত গুলো কারণ খুঁজছেন, কত গুলো কারণ দেখালে আপনি কোরানের বিস্ময়ে অবাক ও হতবাক হয়ে 2 রাকাত সালাত আদায় করবেন??
ইনশাআল্লাহ, আমরা আপনাকে তার চেয়েও অনেক বেশি কারণ দেখাব, যা আপনার মাথা‌কে সিজদায় নিয়ে যেতে বাধ্য করবে!! এবার বলুন- তাহলে এখন আপনার কি করা উচিৎ?? জানেন না?? দুয়া করুন বেশি করে। কারণ, 1500 বছরে যা হয়, তা হচ্ছে!!
ঠিক আছে, প্রথমেই আপনাকে চমকে দিতে চাই!! তা হলে দেখুন- ১) নাবী (সা)- এর 3 পুত্র ও 4 কন্যার সাক্ষ্য দিচ্ছে এই 3 প্রশংসা যুক্ত ও 4 প্রার্থনা যুক্ত মোট 7 টি আয়াত!! বুঝতে পারেন নি, তাই না?? এ বিষয়ে পরে কখনও বলব, আপাতত Suspens'ই থাক!!
তবে, যদি আজও আপনি বুঝতে না পারেন- হোসেন কুরানী কি/ কে, তাহলে 8:22 আয়াতটিতে আল্লাহ মনে হয় আপনার কথাই বলেছেন!! যাইহোক- ২) 3 এমন একটি সংখ্যা, যাকে যাকে সাধারণ কোনও সংখ্যা দ্বারা ভাগ‌ও করা যাবে না। তাই না??
কিন্তু 4 এমন একটি সংখ্যা, যাকে সাধারণ সংখ্যা দ্বারা ভাগ করা যায় (যেমন- 4÷ 2= 2) অর্থাৎ 3 হল Negetive বা (-) এবং 4 হল Positive বা (+), তাই না পাঠক??
আমরা জানি যে, (-) + (+)= (-) হয়, তাই না?? এবার আপনার অবাক হ‌ওয়ার পালা, দেখুন- 3 (-)+ 4 (+)= 7 (-) হচ্ছে, তাই না?? সুধী পাঠক, আপনি কখনও ভেবে ছিলেন- সূরা ফাতিহায় Algebra'র এই সুন্দর Formula ব্যবহৃত হয়েছে, তাও আজ হতে 1500 বছর পূর্বে??
যাইহোক, বলে রাখা ভাল- Algebra শব্দটি English শব্দ নয় বরং Arabic শব্দ। বিজ্ঞানী ও গণিতবিদ আল খারিজিমী (র)- এর লেখা "কিতাবু হিসাব আল-জাবার ওয়াল মুকাবলা" ব‌ইয়ের বিশেষ "আল-জাবার" শব্দ থেকে Algebra শব্দের উৎপত্তি হয়েছে। যদিও আজ তা আমরা অনেকেই ভুলে যেতে চলেছি!!
তবে, মুসলিম‌রা তাকে ভুলে গেলেও, তাকে ভোলে নি তৎকালীন Soviet union বা বর্তমান Russia নামক দেশটি। বিজ্ঞানী ও গণিতবিদ আল খারিজিমী (র)- এর 1200 তম জন্মদিনে Postal ticket জারি করেছিলেন। এই পন্ডিত পৃথিবীতে ছিলেন 780-850 Ad পর্যন্ত!!
আচ্ছা পাঠক, এই যে আপনি পবিত্র কোরানে‌র সূরা ফাতিহায় Algebra'র এই সুন্দর Formula'র সন্ধান পেলেন- বিষয়টি কি আপনাকে অবাক করে নি?? আর হোসেন কুরানী ছাড়া কে আপনাকে এই তথ্য পরিবেশন করতে পারবে/ পেরেছে এর আগে??
যাইহোক, ঐতিহাসিক গোলাম আহমাদ মার্তুজা (হা) দ্বারা অনুপ্রাণিত তো, তাই একটু ইতিহাস বিষয়ক জ্ঞান দিয়ে ফেললাম আরকি!! আপনি কি আজ‌ও হোসেন কুরানীর সঙ্গে শত্রুতা করে যাবেন?? কি পাচ্ছেন শত্রুতা করে??
যাইহোক, যা বলছিলাম, তা হল- যদি শত্রুতা না করে শিখতেন, তাহলে হয়ত বিচারের দিন ইমান ও জ্ঞান সহ আল্লাহ আপনাকে তুলত!! দেখুন, আল্লাহ কোরানে এ বিষয়ে কি বলেছেন-
وَقَالَ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ وَالْإِيمَانَ لَقَدْ لَبِثْتُمْ فِي كِتَابِ اللَّهِ إِلَىٰ يَوْمِ الْبَعْثِ●
অনুবাদ হবে এমন-"এবং যাদেরকে জ্ঞান ও ইমান দান করা হয়েছিল, তারা বলবে- তোমরা [আহলে কোরান, আহলে হাদীস, হানাফী সহ সমস্ত ধর্মের অনুসারী] তো আল্লাহর গ্ৰন্থের বিধান অনুযায়ী উত্থান দিন পর্যন্ত [করবে] অবস্থান করেছ"(30:56)।
এই Mr হারামখোর, আপনি চান না- বিচারের দিনে আল্লাহ আপনাকে জ্ঞান ও ইমান সহ তুলুক?? যদি চান, তাহলে আহলে কোরান, আহলে হাদীস, হানাফী সহ সমস্ত ধর্ম ছেড়ে আপনার ইসলাম গ্ৰহণ করে মুসলিম হ‌ওয়ার আবেদন করছি!!
যাইহোক, আমরা মনে হয়- 1 নং সূরা ফাতিহার 3 ও 4 সংখ্যা‌ কিছু ব্যাখ্যা করছিলাম, তাই না?? এ পর্যন্ত কেমন লাগল আপনাকে?? অবাক হন নি?? একটুও অবাক হন নি??
ঠিক আছে, না হলে কি আর করা যাবে কিন্তু এবার তো অবাক হবেন?? হতেই হবে, যাবেন কোথায়?? না হলে পিটিয়ে অবাক করব!! এই নিন, দেখুন- ৩) 4- 3= 1 হচ্ছে, তাই না??
পাঠক, কোরানে 1 এর গুরুত্ব কি আপনাকে বুঝিয়ে বলতে হবে, না কি বুঝে নিয়েছেন?? ঠিক আছে, হয়ত জানেন কিন্তু যেহেতু হোসেন কুরানী লিখছেন, সেহেতু নিশ্চয় আপনার জানার বাইরে কিছু জানতে পারবেন। সুতরাং মনোযোগ সহ পড়তে থাকুন। পড়বেন তো, না কি??
দেখুন- قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ অনুবাদ হবে এমন-"বলুন, তিনি আল্লাহ, এক/ অদ্বিতীয়"(112:1)। এই বিষয়ে আরও বলা হয়েছে- لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ অনুবাদ হবে এমন-"আল্লাহ ছাড়া কোনও উপাস্য নেই"(37:35, 47:19)।
এখন প্রশ্ন হবে- কেন আল্লাহ ছাড়া অন্য উপাস্য হতে পারে না?? কোরান যা বলবে, তা'ই কি অন্ধের চোখ বন্ধ মেনে নিতে হবে?? একাধিক উপাস্য হলে কি ক্ষতি হতো?? কেন আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনও উপাস্য নেই??শুধু মাত্র 1 উপাস্যের কি কিছু বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে, না কি শুধুই বিশ্বাস??
আপনি কি সত্যিই এ প্রশ্নের উত্তর চান?? তাহলে ঠিক আছে, দেখুন- لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا অনুবাদ হবে এমন-"অথবা যদি হতো মহাবিশ্ব সমূহে একাধিক উপাস্য, তাহলে সব কিছু বিপর্যয়গ্ৰন্থ হতো ও ধ্বংস হয়ে যেত"(21:22)।
এখন প্রশ্ন হবে- কেন বিপর্যয়গ্ৰন্থ হতো ও ধ্বংস হয়ে যেত?? এ ছাড়া‌ও মনে হতে পারে- বিপর্যয়গ্ৰন্থ ও ধ্বংস হতো‌ই না উপরন্তু তাতে সুবিধা হতো এটা যে, ভিন্ন-ভিন্ন উপাস্য ভিন্ন-ভিন্ন সৃষ্টির দায়িত্ব নিত এবং পরিচালনা ও প্রতিপালন করত!!
যেমন- পৃথিবীর দায়িত্ব একজন নিত এবং পরিচালনা ও প্রতিপালন করত, অন্যান্য গ্ৰহের/ উপগ্ৰহের ক্ষেত্রেও তা'ই হতো, সূর্যের ক্ষেত্রেও তা'ই হতো, এছাড়াও অন্য নক্ষত্রদের ক্ষেত্রেও তা'ই হতো!!
আর হ্যাঁ, এমনটা মনে হতে পারে নয়, অনেকেই মনে করেন। এখন প্রশ্ন হল- এ প্রশ্নের উত্তর কি হবে?? উত্তর তো কোরান দেবে, আমি তো শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতেই পারি। আর এর বেশি তো আমাদের আউকাত‌ও নেই। ঠিক আছে, দেখুন-
وَمَا كَانَ مَعَهُ مِنْ إِلَٰهٍ ۚ إِذًا لَذَهَبَ كُلُّ إِلَٰهٍ بِمَا خَلَقَ وَلَعَلَا بَعْضُهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ●
অনুবাদ হবে এমন-"এবং তার সঙ্গে অন্য আর কোন‌ও উপাস্য‌ও নেই। যদি হতো, তাহলে প্রত্যেক ইলাহ নিজে যা সৃষ্টি করেছিল, তা নিয়ে পৃথক হয়ে যেত এবং একে অপরের উপর প্রাধান্য বিস্তার করত"(23:91)।
এখন প্রশ্ন হবে- এক উপাস্য অন্য উপাস্যের উপর কিভাবে প্রাধান্য বিস্তার করত?? পাঠক, ভাবুন তো- এ প্রশ্নের উত্তর কি হবে?? আচ্ছা ঠিক আছে, আপনাকে উত্তর দিতে হবে না, কোরান কি বলে দেখুন-
قُلْ لَوْ كَانَ مَعَهُ آلِهَةٌ كَمَا يَقُولُونَ إِذًا لَابْتَغَوْا إِلَىٰ ذِي الْعَرْشِ سَبِيلًا●
অনুবাদ হবে এমন-"বলুন, যদি আল্লাহর সঙ্গে অন্য উপাস্য সমূহ থাকত, যেমনটা এরা বলে থাকে। তাহলে তারা [অন্যান্য উপাস্য গুলো] খুঁজে নিত আরশের অধি পতি‌র স্থানে পৌঁছানোর পথ"(17:42)।
অর্থাৎ অন্যান্য উপাস্য সমূহ আরশ [সর্বোচ্চ ক্ষমতা] দখলের চেষ্টা করত, যা আল্লাহর। পাঠক, এখন হয়ত প্রশ্ন হবে- আরশ কি!! তাই না?? এ প্রশ্নের বিজ্ঞান‌ময় উত্তর জানতে Link এ Click করুন-
পাঠক, মোটা-মুটি বুঝেছেন?? মানে- যদি ভিন্ন-ভিন্ন সৃষ্টিকর্তা ভিন্ন-ভিন্ন বস্তুর সমূহের স্রষ্টা হতো, তাহলে সৃষ্ট বস্তু সমূহের Law of physics ভিন্ন-ভিন্ন হতো!! ফলত মহাবিশ্ব সমূহে বিপর্যয় নেমে আসত এবং মহাবিশ্ব সমূহ ধ্বংস হয়ে যেত!!
কিন্তু আমাদের মহাবিশ্ব এবং অন্যান্য সমস্ত মহাবিশ্ব একটি নিদিষ্ট Law of physics মেনে চলে- এটাই প্রমাণ‌ বহন করে যে, স্রষ্টা একজন। আয়াতটি দেখে নিন- أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ ۗ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ অনুবাদ হবে এমন-"জেনে রেখ‌ও, সৃষ্টি সমূহ তার‌ই, সৃষ্ট পদার্থে আ‌ইন‌ও [Law of physics] তার। আল্লাহ কল্যাণময় এবং তিনি‌ই মহাবিশ্ব সমূহ [নিদিষ্ট Law of physics অনুযায়ী] প্রতিপালন করে চলেছেন"(7:54)।
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পেয়েছেন?? এবার আপনাকে 2 টি ছোট্ট ছোট্ট আয়াত দেখাব, নিন- فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ অনুবাদ হবে এমন-"জেনে নিন, আল্লাহ ছাড়া আর অন্য কোনও উপাস্য নেই"(47:19)।
এখানেই শেষ নয়- سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ অনুবাদ হবে এমন-"আল্লাহ পবিত্র, তারা যত গাঁজাখুরি কথা গুলো বলে, তা হতে"(23:91)। এখন প্রশ্ন হবে- তারা এমন কথা গুলো বলেন কেন?? উত্তর‌টা দেখুন-
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُجَادِلُ فِي اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَلَا هُدًى وَلَا كِتَابٍ مُنِيرٍ●
অনুবাদ হবে এমন-"এবং মানুষদের মধ্যে কেউ-কেউ আল্লাহ সম্পর্কে ঝগড়া করে জ্ঞান ছাড়াই, কোনও পথ নির্দেশনা ছাড়াই, জ্ঞানের প্রতিফলিত গ্ৰন্থ [নাবী-রাসুল (আ)- দের সাহীহ ও হাসান হাদীস, প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক তথ্য সমৃদ্ধ গ্ৰন্থ] ছাড়াই"(22:8)।
এটা তো প্রথম কারণ, দ্বিতীয় কারণ আছে?? আছে রে ভাই আছে, দেখে নিন- أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ অনুবাদ হবে এমন-"তাদের বেশিরভাগ‌ই [সত্য‌টা] জানে না"(31:25)। আর তৃতীয় কারণ?? নিন- بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَا يَفْقَهُونَ অনুবাদ হবে এমন-"তারা নির্বোধ সম্প্রদায়"(9:127)।
এখন প্রশ্ন হবে- কোন উদেশ্যে তারা এমনটা করতে থাকেন?? নিন, দেখুন- لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ অনুবাদ হবে এমন-"আল্লাহ পথ থেকে মানুষদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্য"(22:9)।
আচ্ছা পাঠক, আপনি কি বুঝতে পারছেন- কোরান কত্ত সুন্দর ও বিস্তারিত ভাবে মৌলিক বিষয় গুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করে?? চলুন, আপনাকে এ বিষয়ে পবিত্র কোরান থেকে একটি আয়াত দেখাই, দেখে হয়ত চমকে উঠবেন- وَلَا يَأْتُونَكَ بِمَثَلٍ إِلَّا جِئْنَاكَ بِالْحَقِّ وَأَحْسَنَ تَفْسِيرًا অনুবাদ হবে এমন-"এবং তারা আপনার কাছে যখনই কোনও মাসালা বা সমস্যা নিয়ে আসে, তখনই আমরা আপনার কাছে আসি পরিপূর্ণ সত্য এবং সুন্দর ব্যাখ্যা সহ"(25:33)।
যাইহোক, আমরা এতক্ষণ বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণ করলাম- স্রষ্টা, উপাস্য মাত্র 1 জন, তিনি হলেন আল্লাহ। এবার আমরা আপনাকে দেখাব, বিশেষ ও বেশ সুন্দর একটি আয়াত। দেখুন-
وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ●
অনুবাদ হবে এমন-"এবং আমরা আপনার পূর্বে কোনও রাসুলই পাঠাই নি, তার প্রতি এই ওহী [নির্দেশ] ছাড়া যে, আমি ছাড়া আর কোন‌ও উপাস্য নেই। সুতরাং শুধুমাত্র আমারই ইবাদত কর‌ও"(22:25)।
এবার আমরা অন্যান্য রাসুল (আ)- দের নিকট নাযিল হ‌ওয়া গ্ৰন্থে কি বলা হয়েছে বা রাসুল (আ)- রা কি বলে ছেন, তা দেখে নিতে চাই, আপনি চান?? তাহলে আর দেরি কেন?? নিন, দেখুন-"Hear, O Israel- The Lord our God, the Lord is one"(Deuteronomy- 6:4)।
আরও কি বলা হয়েছে দেখুন-"I am God, and there is no other"(Isaiah- 45:22)। আচ্ছা, যিশু বা ঈশা (আ) কি বলেছেন, তা দেখে নিন-"Hear, O Israel- the Lord our God, the Lord is one. And you shall love the Lord your God with all your heart, with all your soul, with all your mind, and with all your strength"(Mark- 12:29 ও 30)।
এখন প্রশ্ন হবে- কেন যিশু বা ঈশা (আ) এমন কথা বললেন?? এর কারণ হল-"For the Lord our God is holy"(Psalm- 99:9)। পাঠক, আর কিছু বলব, না কি বুঝে নিয়েছেন??
পাঠক, হিন্দু ধর্ম কি বলে, তা এবার আমরা দেখে নিতে চাই, সুতরাং দেখুন-"Brahma is one and is unchangeable"(Yajurveda- 40:4)। আরও কি বলা হয়েছে দেখুন-"Praise only mighty Indra"(Rigveda- 8:1:1)।
আচ্ছা পাঠক, এ বিষয়ে কি কিছু বলব, না কি যথেষ্ট হয়েছে?? যথেষ্ট হয়েছে বলুন?? যাইহোক, আমরা মনে হয়- 1 নং সূরা ফাতিহার 3 ও 4 সংখ্যা‌ কিছু ব্যাখ্যা করছিলাম, তাই না??
তাহলে আরও একটু এগিয়ে যাই?? দেখুন- ৪) বিশেষ একটা সূরার 3 নং আয়াতে আল্লাহর 4 টি গুরুত্বপূর্ণ নাম রয়েছে, যা মহাবিশ্ব সমূহের সৃষ্টিকে পূর্ণ বিজ্ঞানময় ভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে/ প্রমাণ করতে পারে আল্লাহর অস্তিত্ব, তাও বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে!!
আচ্ছা পাঠক, বলতে পারবেন- হোসেন কুরানী কোন আয়াতের কথা বলছেন?? ছাড়ুন, বলতে হবে না। শুধু দেখুন- هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ অনুবাদ হবে এমন-"তিনিই প্রথম, তিনিই শেষ এবং তিনিই প্রকাশ্য ও তিনিই গুপ্ত"(57:3)।
57 নং সূরার 3 নং আয়াতে আল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ 4 টি নাম পেয়েছেন?? না হলে দেখুন- 1) أَوَّلُ (আউয়ালু), 2) آخِرُ (আখিরু), 3) ظاهِرُ (জাহিরু), 4) بَاطِنُ (বাতিনু)। এই বার পেয়েছেন??
প্রশ্ন হবে- এই 4 টি নামের মধ্যে কি এমন আছে, যা মহাবিশ্ব সমূহের সৃষ্টিকে পূর্ণ বিজ্ঞানময় ভাবে ব্যাখ্যা করতে/ আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণ করতে পারে?? হোসেন কুরানীর কাছে উত্তর আছে, না কি শুধু Dialogue??
হোসেন যদি আসলেই কুরানী হন, তা হলে উত্তর তো আছে, আর যদি না হন, তাহলে এত দিন ধরে (প্রতিদিন গড়ে 10 ঘন্টা) কোরান গবেষণা করে কি করলেন?? আর হোসেন কুরানী তো আলিম বা সম্মানিত হারাম খোর নন!! সুতরাং নিচের Link এ যান-
যাইহোক, 3 ও 4 এর আর কোনও ব্যাখ্যা আছে?? হোসেন কুরানী আছেন, মানে ব্যাখ্যাও আছে- এতে বিন্দু মাত্র‌ও সন্দেহ নেই!! পাঠক, আপনি কি বলেন?? আছে তো ব্যাখ্যা?? হ্যাঁ, তাহলে দেখুন- ৫) 3 ও 4 দ্বারা 34'ও হয়, তাই না??
কিন্তু প্রশ্ন হবে- 34 হচ্ছে, তাতে কি হবে?? কিছুই হবে না, হয়ত অবাক হবেন এবং আরও বেশি হলে আপনার মস্তিষ্ক আন্দোলিত হবে!! আরও বেশি হলে আপনার কাছে ইসলামের সত্যাতা সর্বোচ্চে অবস্থান নেব, আরও বেশি হলে আপনার মাথা সিজদায় লুটিয়ে পড়বে!!
প্রশ্ন হবে- কি এমন আছে 34 এ, যে আমাদের মাথা সিজদায় লুটিয়ে পড়বে?? আররেহ, আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম বলতে যে, মাথা সিজদায় লুটিয়ে পড়বে শুধু জ্ঞানী‌দের, আপনার নয়!! আয়াতটি দেখুন-
قُلْ آمِنُوا بِهِ أَوْ لَا تُؤْمِنُوا ۚ إِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ مِنْ قَبْلِهِ إِذَا يُتْلَىٰ عَلَيْهِمْ يَخِرُّونَ لِلْأَذْقَانِ سُجَّدًا●
অনুবাদ হবে এমন-"বলে দিন, তোমরা এর [কোরানের] উপর ইমান আনায়ন কর‌ও বা না কর‌ও, যাদেরকে এর আগে জ্ঞান দেয়া হয়েছে, যখন তাদের সামনে এটা পড়া হয়, তখন তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ে"(17:107)।
না পাঠক, আপনাকে বলি নি। আপনি তো অনেক জ্ঞানী, নয়ত আমাদের লেখা পড়তেন না!! এখন প্রশ্ন হবে- 34 এর অর্থ কি?? দেখলেন তো, আপনি বুঝতে পারেন নি, আমার পাঠক হলে অবশ্যই বুঝে নিতেন!!
34 অর্থ হল- 34 নং সূরা। প্রশ্ন হবে- হ্যাঁ, 34 নং হল সূরা সাবা, তাতে কি?? আররেহ দাঁড়ান ভাই, দেখাচ্ছি। এত তাড়া-তাড়ি কেন?? আমি তো এখনও 120 বছর 9 মাসের বেশি আছি। তাই না??
34 নং সূরার 3 নং আয়াত খুলুন, কি আছে দেখতে পেয়ে যাবেন- ইনশাআল্লাহ। এখানে প্রশ্ন হবে- 3 নং আয়াত'ই কেন, 4 নং নয় কেন?? এ প্রশ্নের উত্তর পরের Point এ পাবেন, এখন আয়াতটি দেখুন-
لَا يَعْزُبُ عَنْهُ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ وَلَا أَصْغَرُ مِنْ ذَٰلِكَ وَلَا أَكْبَرُ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُبِينٍ●
অনুবাদ হবে এমন-"তার কাছ থেকে Galaxy সমূহে অবস্থিত পরমাণুর চেয়ে ছোট্ট (Electron, proton and neutron) কোনও কিছু লুকায়িত নেই এবং পৃথিবীর‌ও কোনও লুকায়িত নয়। আর না তার (Electron, proton and neutron এর) চেয়ে ছোট কণা সমূহ (6 flavours of quark), না তার (Electron, proton and neutron এর) চেয়ে বড় সমূহ (পরমাণু, অনু) হোক, সব‌ই সুস্পষ্ট গ্ৰন্থে লিপিবদ্ধ আছে"(34:3)।
বুঝেছেন?? বোঝেন নি, তাই না?? মানে- ফাতিহার 1 নং আয়াতে বলা হচ্ছে যে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, (কেননা) তিনি মহাবিশ্ব সমূহের প্রতিপালক। তাই না?? আর 34:3 আয়াতে বলা হচ্ছে- মহাবিশ্ব/ মহাবিশ্ব সমূহ কিভাবে পর্যায়ক্রমে বর্তমান সময় পর্যন্ত পৌঁছেছে বা পৌঁছাবে এবং তাদের ভবিষ্যৎ কি হবে!! বিস্তারিত নিচের Link এ-
প্রশ্ন হবে- মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ জানা সম্ভব?? সম্ভব নয় কেন, তাহলে বিজ্ঞানীগণ এত দিন করলেনটা কি?? বিজ্ঞানীগণ কি সম্মানিত হারামখোরগণ, যারা শুধু সমাজ ধ্বংস করে নিজ ধন-সম্পদ বৃদ্ধি করবেন??
প্রশ্ন হবে- বিজ্ঞানীগণ যে সত্য বলছেন, তা আমরা কি ভাবে জানব?? হ্যাঁ, আপনার জন্য জানা শুধু কঠিন‌ই নয় বরং অসম্ভবের কাছা-কাছি কিন্তু হোসেন কুরানী ও তার Team এর জন্য নয়। কারণ-
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَىٰ وَالْفُرْقَانِ●
অনুবাদ হবে এমন-"রামাদান মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে পবিত্র কোরান, যা পথনির্দেশ মানবজাতির জন্য এবং পথনির্দেশটি সুস্পষ্ট প্রমাণিত, যা সত্য মিথ্যা‌র পার্থক্য সৃষ্টিকারি"(2:185)।
এছাড়াও পবিত্র কোরানে মহাবিশ্বের ভবিষ্যত‌ই নয় বরং Hawking radiation পর্যন্ত নিখুঁত বর্ণনা রয়েছে। তবে, এ সব সম্মানিত হারামখোরদের মাথায় ঢুকবে না এবং এটা প্রায় অসম্ভব। কেন?? কারণ, সবাই হোসেন কুরানী হয়ে গেলে আমি কি করব!! মাছি মারব??
এবার বুঝেছেন?? আচ্ছা যাইহোক, আবারও 3 ও 4 এর ব্যাখ্যা‌য় এগিয়ে যেতে চাইছি, তাই দেখুন- ৬) গত Point এ দেখিয়েছি যে, 3 ও 4 বলতে 34 নং সূরা এবং তার 3 নং আয়াত। তাই না??
কিন্তু 3 ও 4 বলতে 43'ও হয়, তাই না?? পূর্বে আমরা 34 নং সূরার 3 আয়াত দেখেছি, এবার আমরা 43 নং সূরার 4 নং আয়াত দেখব। কেননা, আগে 3 হয়, পরে 4, তাই না?? সুতরাং এখন দেখুন, পরে অবাক করা একটা তথ্য দেব- وَإِنَّهُ فِي أُمِّ الْكِتَابِ لَدَيْنَا لَعَلِيٌّ حَكِيمٌ অনুবাদ হবে এমন-"এবং নিশ্চয় তা আছে আমাদের কাছে 'গ্ৰন্থে‌র মা' এর [মূল গ্ৰন্থের] মধ্যে, যা উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন ও বিজ্ঞানময়"(43:4)।
প্রশ্ন হবে- أُمِّ الْكِتَابِ (উম্মুল কিতাব) বলতে কি, যা 43:4 আয়াতে বলা হচ্ছে?? উত্তর সহজ- ক) 1 নং সূরা ফাতিহাকেও أُمِّ الْكِتَابِ (উম্মুল কিতাব) বা أُمِّ الْقُرْآن (উম্মুল কুর‌আন) বলা হয়। তাই 3 ও 4 দ্বারা আল্লাহ 43:4 আয়াতে বর্ণিত সূরা ফাতিহার নামের সন্ধান দিয়ে ছেন!!
খ) দেখুন- بَلْ هُوَ قُرْآنٌ مَجِيدٌ অনুবাদ হবে এমন-"বরং কোরান সম্মানিত"(85:21)। তারপর- فِي لَوْحٍ مَحْفُوظٍ অনুবাদ হবে এমন-"যা রয়েছে সুরক্ষিত ফলকে"(85: 22)।
মানে- أُمِّ الْكِتَابِ (উম্মুল কিতাব) বলতে لَوْحٍ مَحْفُوظٍ (লাওহি মাহফুজ) কে বোঝান হয়েছে, এ বিষয়ে আল্লাহ 56:77 থেকে 78 আয়াতেও বিস্তারিত বলেছেন। আচ্ছা যাইহোক, এভাবে ব্যাখ্যা করতে শুরু করলে কিয়ামত হয়ে যাবে কিন্তু ব্যাখ্যা শেষ হবে না। তারপর উপর আবার লিখছেন হোসেন কুরানী, মানে- কিয়ামতের পরেও ব্যাখ্যা চলতে থাকবে- ইনশাআল্লাহ!!
তাই আমরা প্রসঙ্গ বদল করে 3 ও 4 এর 7 নং ব্যাখ্যা করে, অল্প কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়ে এই লেখা (পর্ব- 2) শেষ করতে চাইছি। তাই দেখুন- ৭) 1 নং সূরা ফাতিহার প্রথম থেকে 3 নং আয়াত যা, 1 নং সূরা ফাতিহার শেষ থেকে 4 নং আয়াত‌ও তা!!
পাঠক, অবাক হন নি?? আচ্ছা, চলুন প্রথমে আয়াত টি একবার দেখে নিন- مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ অনুবাদ হবে এমন-"তিনিই বিচার দিবসের অধিপতি/ মালিক"। কি পাঠক, কেমন লাগল??
আমি‌ও পাগল- এটা আবার কেউ জিজ্ঞাসা করে?? এই ব্যাখ্যা সর্বোত্তম না লাগার কি কোনও অজুহাত আছে আপনার কাছে?? 'অজুহাত' থেকে একটা স্মৃতি মাথা চাড়া দিল!! বলব?? শুনবেন??
কেউ একবার আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন- ক'টা হাত আপনার?? এমন প্রশ্ন শুনে আমি চমকে উঠলাম এবং বললাম- এটা কোনও প্রশ্ন হল যে, আপনার ক'টা হাত!! তাকে বললাম- আপনার কত গুলো হাত?? তিনি বললেন- আমার তো 2 টো।
আমি বললাম- তাহলে আমার কত গুলো হাত হ‌ওয়া উচিৎ?? তিনি বললেন- আপনার 3 টে!! আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম- মানে?? তিনি বললেন- ডান হাত, বাম হাত এবং অজুহাত!!
শুনে আমি হাঁসতে-হাঁসতে বললাম- এত ঘুরিয়ে কথা বলার মানে কি?? তিনি বললেন- রাত 2 টায় আপনার Call করার কথা, Call না করে আবার অজুহাত দিচ্ছেন যে, পড়তে-পড়তে দেরি হয়ে গেছে!!
যাইহোক, মাঝে কয়েক দিন তার কথা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম কিন্তু আজ অর্থাৎ 26.02.2021 তারিখ সকাল থেকে তার কথা অনেক মনে পড়ছে, জানি না কেন!! মরে যাব না কি রে ভাই??
না না না, মরলে হবে না, মরে গেলে আমার কাজ গুলো কে করবে!! তাই মরা Cancel, এবার চলুন কিছু প্রশ্নের উত্তর দিই- কেন আল্লাহ 3 ও 4 এর সংখ্যা তত্ত্বে مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ কে নিয়ে এলেন??
উত্তর খুব সহজ- إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ অনুবাদ হবে এমন-"আমরা শুধু আপনার ইবাদত করি, শুধু আপনার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি"(1:4)। মানে- 1:4 আয়াতটি যেন মনে থাকে!! আর ভুলে না যাই-
وَهُوَ اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ لَهُ الْحَمْدُ فِي الْأُولَىٰ وَالْآخِرَةِ ۖ وَلَهُ الْحُكْمُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ●
অনুবাদ হবে এমন-"তিনিই আল্লাহ‌, যিনি ছাড়া কোনও উপাস্য নেই। তারই জন্য প্রশংসা ইহকালে, পরকালেও। বিধান তারই এবং তারই দিকে তোমরা ফিরে যাবে"(28: 70)। বুঝেছেন পাঠক??
প্রশ্ন হবে- সূরা ফাতিহাকেও أُمِّ الْكِتَابِ (উম্মুল কিতাব) বা أُمِّ الْقُرْآن (উম্মুল কুর‌আন) বা 'কোরানের মা' বলা হয় কেন?? উত্তর খুবই সহজ- এখনও বুঝতে পারেন নি?? এখনও এটা বোঝেন নি যে, গোটা কোরান‌ই হল সূরা ফাতিহার ব্যাখ্যা মাত্র!!
এই জন্যই হয়ত পবিত্র কোরানে আল্লাহ এভাবে বলে ছেন- وَلَقَدْ آتَيْنَاكَ سَبْعًا مِنَ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنَ الْعَظِيمَ অনুবাদ হবে এমন-"এবং নিশ্চয় আমরা আপনাকে বারংবার পড়ার জন্য দিয়েছে 7 আয়াত এবং মহান কোরান"(15: 87)।
পাঠক, লক্ষ্য করেছেন কি- উপরিউক্ত আয়াতে সূরা ফাতিহাকে এবং কোরান‌কে আলাদা ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে?? যেন মানুষ এই সূরার গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারে কিন্তু দুঃখের কথা বলা- গত 1500 বছরে তা আর হল কোথায়!!
যদিও পবিত্র কোরানে আল্লাহ খুবই গুরুত্বের সঙ্গে বলেছেন- كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ অনুবাদ হবে এমন-"গ্ৰন্থ‌টি [কোরান] আমরা আপনার উপর নাযিল করেছি, তা কল্যান‌ময় এবং যেত তারা আয়াত সমূহ নিয়ে গবেষণা করে"(38:29)।
আর কোরানকে নিয়ে যারা গবেষণা করে না, তাদের উদেশ্যে পবিত্র কোরানে আল্লাহ কি বলেছেন, তা দেখে নিন- أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَىٰ قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا অনুবাদ হবে এমন-"তারা কি পবিত্র কোরানকে নিয়ে গবেষণা করে না, না কি তাদের Brain lock করা আছে"(47:24)??
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য- আমাদের আলিমগণ অর্থাৎ সম্মানিত হারামখোরগণ কোরান গবেষণা করা তো দূরের কথা, কোরান পড়ার উপরেও বিভিন্ন ধরণের নিষিদ্ধ‌তা চাপিয়ে দিয়েছেন!!
যেমন- ১) ওজু ছাড়া কোরান স্পর্শ করা যাবে না, ২) কোরান খুলে রেখে দেওয়া যাবে না, তাহলে শায়তান পড়ে নেবে ৩) কোরান‌কে গিলাফ (কাপড় দ্বারা) ঢেকে রাখতে হবে, ৪) কোরান‌কে নিচে রাখা যাবে না, ৫) ঘরের সর্বোচ্চ ঊর্ধ্বে রাখতে হবে, ৬) কোরান হাত থেকে পড়ে গেলে, 3/ 5/ 10 জন কে 2 বেলা খাওয়াতে হবে, ৭) পড়া ভুল/ উচ্চারণ ভুল হলে কাফির হয়ে যাবে, ৮) কোরান পড়া আলিমদের কাজ, তোমরা সাধারণ মানুষ- পড়লেও কি কোরান বুঝে যাবে??
যাইহোক, যা বলতে চাইছিলাম, তা হল- কোরানের গভীরে দৃষ্টি'র মোট 99 টি পর্ব পড়ে শেষ ফেলুন, তাহলে সহজেই বুঝে যাবেন যে, সূরা ফাতিহা'ই হল পবিত্র কোরানে‌র সংক্ষিপ্ত রুপ!!
প্রশ্ন হবে- 2:2 আয়াতে বলা হয়েছে যে, هُدًى لِلْمُتَّقِينَ অর্থাৎ কোরান মুত্তাকীদের/ আল্লাহ ভীরু‌দের জন্য। তা হলে কি কোরান নাস্তিকদের জন্য নয়?? পাঠক, এ প্রশ্নের উত্তর কি হবে?? আপনি ভাবুন, এখন রাত 3:35 বাজে এবং 27.02.2021 তারিখ। আমি সকালে উঠে উত্তর দেব, এখন ফজরের জন্য অপেক্ষা করি!!
উত্তর সহজ- কোরান মুত্তাকীদের জন্য, এতে কোনও সন্দেহ নেই। তবে, শুধুমাত্র মুত্তাকীদের জন্য নয়, মানব জাতির জন্যেও। নিচের আয়াতটি দেখুন, বোঝার আর কিছু বাকি থাকবে না-
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَىٰ وَالْفُرْقَانِ●
অনুবাদ হবে এমন-"রামাদান মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে পবিত্র কোরান, যা পথনির্দেশ মানবজাতির জন্য এবং পথনির্দেশটি সুস্পষ্ট প্রমাণিত, যা সত্য মিথ্যা‌র পার্থক্য সৃষ্টিকারি"(2:185)।
এ ছাড়াও দেখুন- هُدًى وَبُشْرَىٰ لِلْمُؤْمِنِينَ অনুবাদ হবে এমন-"এটা পথনির্দেশ ও সুসংবাদ মুমিনদের জন্য"(27: 2)। আরও দেখুন- وَهُدًى وَبُشْرَىٰ لِلْمُسْلِمِينَ অনুবাদ হবে এমন-"এবং এটা পথনির্দেশ ও সুসংবাদ মুসলিম‌দের জন্য"(16:89 ও 102)।
আর কিছু বলব?? মানে- কোরান মুমিন, মুত্তাকী, মুসলিম এবং মানব জাতির জন্যেও অর্থাৎ এই কোরান সবার জন্য!! যাইহোক, এখন একটা ছোট্ট প্রশ্ন করে ফেলি, যার উত্তর খুব কঠিন?? প্রশ্ন‌টি হল- 2:2 আয়াতে কেন বলা হল هُدًى لِلْمُتَّقِينَ অর্থাৎ কোরান মুত্তাকীদের জন্য পথপ্রদর্শক, মানব জাতির, মুমিন‌দের বা মুসলিম‌ দের জন্য বললে কি ক্ষতি হতো??
সুধী পাঠক, এই প্রশ্ন‌টির উত্তর ধারণাতীত কঠিন। এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো কোনও আলিম/ সম্মানিত হারামখোর এ পৃথিবীতে আছে?? তাদের জন্য এ প্রশ্নের উত্তর কঠিন হলেও, হোসেন কুরানী আছেন তো!!
তাহলে চিন্তা করছেন কেন?? চিন্তা ছাড়ুন ও দেখতে থাকুন- হ্যাঁ মানব জাতির জন্য, মুমিন‌দের বা মুসলিম‌ দের জন্য বললে ক্ষতি তেমন হয়ত হতো না কিন্তু এটা দারুণ ভাবে অযৌক্তিক হয়ে যেত!!
বুঝতে পারছেন না, তাই না?? বুঝবেন কিভাবে, মাত্র 1500 বছর পর শুনছেন যে!! পাঠক, তাহলে একবার ভাবুন- গত 1500 বছর ধরে আলিমগণ বা সম্মানিত হারামখোরগণ করলেন কি যে, হোসেন কুরানী‌কে উত্তর দিতে হচ্ছে??
ঠিক আছে, নিন। দেখুন- সমস্ত মানুষ সূরা ফাতিহা পড়তেও পারে, নাও পারে। মুমিন সূরা ফাতিহা পড়তেও পারে, নাও পারে। মুসলিম সূরা ফাতিহা পড়তেও পারে, আবার নাও পারে কিন্তু مُتَّقِينَ (মুত্তাকীন) বা আল্লাহ ভীরু‌রা (যারা আল্লাহ‌কে ভয় করে, তারা) সূরা ফাতিহা পড়বেই!!
কারণ, মুত্তাকী‌রাই নামাজ পড়ে, নামাজ পড়লে তো সূরা ফাতিহা পড়বেই পড়বে এবং তাতে বলবেই বলবে যে- إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ অনুবাদ হবে এমন-"আমরা শুধু আপনার ইবাদত করি এবং শুধু আপনার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি"(1:4)।
আর‌ও বলবে যে- اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ অনুবাদ হবে এমন-"আমাদের‌কে দেখান 'সবচেয়ে সহজ' পথ"(1:5)। তাই সূরা ফাতিহা শেষ করতে না করতেই আল্লাহ উত্তর দিয়েছেন এভাবে- ذَٰلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ ۛ فِيهِ ۛ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ অনুবাদ হবে এমন-"সেই গ্ৰন্থ সমূহে [কোরানে] কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই, তা মুত্তাকীদের [নামাজীদের] জন্য পথপ্রদর্শক"(2:2)। বুঝলেন??
্যাঁ, নামাজী বলতে হোসেন কুরানী‌র মতো নামাজীর কথা বলা হচ্ছে, 8:22 আয়াতে বর্ণিত নামাজীকে ধরে নেবেন না যেন। দেখতে চাইবেন- 8:22 আয়াতে কাদের কথা বলা হচ্ছে?? না, আর দেরি করব না, আয়াতটি দেখুন- إِنَّ شَرَّ الدَّوَابِّ عِنْدَ اللَّهِ الصُّمُّ الْبُكْمُ الَّذِينَ لَا يَعْقِلُونَ অনুবাদ হবে এমন-"নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সব চেয়ে নিকৃষ্ট পশু হল তারা, যারা- বধির, বোবা ও যাদের বুদ্ধি নেই"(8:22)।
প্রশ্ন হবে- 43:4 আয়াতে أُمِّ الْكِتَابِ (উম্মুল কিতাব) বা لَوْحٍ مَحْفُوظٍ (লৌহি মাহফুজ) কে لَعَلِيٌّ حَكِيمٌ (লা'আলি উল হাকিম) বা "উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন ও বিজ্ঞানময়" বলা হয়েছে ও কোরান‌কেও قُرْآنِ الْحَكِيمِ (কুরানীল হাকিম) বলা হয়েছে- এমনটা বলার কারণ কি??
আরও প্রশ্ন- কোরানে لَوْحٍ مَحْفُوظٍ (লৌহি মাহফুজ) কে أُمِّ الْكِتَابِ (উম্মুল কিতাব) বা "গ্ৰন্থে‌র মা" এবং সূরা ফাতিহা‌কেও সংখ্যা তত্ত্বের মাধ্যমে أُمِّ الْكِتَابِ (উম্মুল কিতাব) বা "গ্ৰন্থে‌র মা" বলা হয়েছে- এমনটা কেন??
এখানে উল্লেখিত দ্বিতীয় প্রশ্ন‌টির উত্তর একটু উপরেই দেওয়া হয়েছে। তবুও এই 2 টি প্রশ্নের উত্তর এক সঙ্গে দেওয়ার প্রয়োজন মনে করছি। পাঠক, উত্তর দেব?? পড়বেন তো??
পাঠক, এখন যা জানতে চলেছেন, তা আপনি কল্পনা করতে পারবেন না, আপনার কল্পনার ঊর্ধ্বে!! তবে যদি 8:22 আয়াতে বর্ণিত পশু আপনি না হন, তাহলে এখন আপনার সঙ্গে যা হতে পারে, তা হল- আপনি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাবেন!!
তবে, হোসেন কুরানীর এই লেখা গুলোর আজ হতে 1000 বছর পর হয়ত মূল্যায়িত হবে। কেননা, হোসেন কুরানীর এই লেখা গুলো (কোরানের গভীরে দৃষ্টি‌র পর্ব গুলো) এত উচুঁ মানের যে, তা উপলদ্ধি করার মতো জ্ঞান মানব জাতি আজও অর্জন করতে পারে নি!!
কথা গুলো শুনে হয়ত মনে হবে- শালা Dialogue মারছে কিন্তু এটাই সত্য। আচ্ছা, একবার সত্যি করে বলুন তো- হোসেন কুরানী যে তথ্য গুলো দেয়, তা কি হোসেন কুরানী দেওয়ার পূর্বে জানতেন?? তা কি এই পৃথিবীর কেউ জানতেন??
উত্তর হবে- না, কেউ‌ই জানতেন না!! এই তথ্য গুলো আপনাকে দেওয়ার জন্য এই মানুষ‌টা (হোসেন কুরানী) কত কিছু ত্যাগ করেছেন এবং করছেন- তা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না!!
শুধু এই টুকুই জানুন যে- এই মানুষ‌টা প্রতিদিন সব চেয়ে কম হলেও 10 ঘন্টা শুধুমাত্র কোরান গবেষণা করে কাটিয়ে দেন এবং অন্যান্য সমস্ত কিছু পড়া-শোনা ও গবেষণায় 5 থেকে 6 ঘন্টা সময় দেন। সব মিলিয়ে প্রতিদিন 15-16 ঘন্টা পড়া-শোনা ও গবেষণায় করে কাটিয়ে দেন। বাকিটা সহজেই অনুমেয়!! তাই না??
উপরের 2 টি প্রশ্নের উত্তর তো দেব‌ই, সঙ্গে আরও একটা প্রশ্ন জুড়ে দিই- لَوْحٍ مَحْفُوظٍ (লৌহি মাহফুজ) আসলে কি এবং কেমন দেখতে?? পাঠক, এই ধরণের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া তো দূরের কথা, সম্মানিত হারাম খোররা এই ধরণের প্রশ্ন‌‌ও কখনও পান নি!!
তাহলে এবার উত্তর দিই, না কি?? আসলে 1 নং সূরা ফাতিহাই أُمِّ الْكِتَابِ (উম্মুল কিতাব‌), أُمِّ الْكِتَابِ (উম্মুল কিতাব‌‌ই) হল- لَوْحٍ مَحْفُوظٍ (লৌহি মাহফুজ)। সুতরাং لَوْحٍ مَحْفُوظٍ (লৌহি মাহফুজ‌ই) হল- সূরা ফাতিহা!!
বুঝতে পারেন নি?? মানে হল- 1 হল 2 এর সমান, 2 হল 3 এর সমান, তাহলে 1 ও 3 সমান। ছোট বেলায় এ গুলো School এ পড়েছিলাম। যাইহোক, لَوْحٍ مَحْفُوظٍ (লৌহি মাহফুজ‌ই) হল- সূরা ফাতিহা।
আচ্ছা, لَوْحٍ مَحْفُوظٍ হল لَعَلِيٌّ حَكِيمٌ এবং কোরান‌ও হল قُرْآنِ الْحَكِيمِ- এমনটা কেন, তাই তো?? উত্তর খুব এবং খুবই সহজ- لَوْحٍ مَحْفُوظٍ (লৌহি মাহফুজ‌ই) হল- সূরা ফাতিহা, আর ফাতিহা হল কোরান, তাই আল্লাহ পবিত্র কোরানে‌র গুরুত্ব বোঝাতে বলেছেন- وَالْقُرْآنِ الْحَكِيمِ বা "বিজ্ঞান‌ময় কোরানের শপথ"(36:2)।
একটা ছোট্ট প্রশ্ন- 36:2 আয়াতে আল্লাহ কোরানের শপথ করলেন কেন?? উত্তর সহজ- আরবি ভাষায় শপথ হল গুরুত্বের প্রতীক। যেন আপনি বুঝতে পারেন যে, কোরান বিজ্ঞান‌ময় বটেই উপরন্তু এই কোরান‌ই হল লাওহি মাহফুজ‌!!
তাহলে যে বলা হল- بَلْ هُوَ قُرْآنٌ مَجِيدٌ অনুবাদ হবে এমন-"বরং কোরান সম্মানিত"(85:21)। তারপর বলা হল- فِي لَوْحٍ مَحْفُوظٍ অনুবাদ হবে এমন-"যা রয়েছে সুরক্ষিত ফলকে"(85: 22)??
উত্তর সহজ- আল্লাহ ঠিকই বলেছেন যে, কোরান সুরক্ষিত ফলকে‌ই ও আল্লাহ‌র কাছে আছে, যেমন বলা হয়েছে 43:4 আয়াতে। মনে রাখার বিষয় হল- সেই লাওহি মাহফুজ‌এর Copy'ই হল সূরা ফাতিহা, যা 3 ও 4 এর সংখ্যা তত্ত্বে আল্লাহ বলেছেন!!
ভিন্ন অর্থে‌ও আল্লাহ ঠিকই বলেছেন- بَلْ هُوَ قُرْآنٌ مَجِيدٌ অনুবাদ হবে এমন-"বরং কোরান সম্মানিত"(85:21)। তারপর- فِي لَوْحٍ مَحْفُوظٍ অনুবাদ হবে এমন-"যা রয়েছে সুরক্ষিত ফলকে"(85: 22)। তারমানে হল- কোরান সূরা ফাতিহা‌য় সুরক্ষিত।
এখন সব চেয়ে বড় প্রশ্ন- এ সব কি উল্টো-পাল্টা বকছেন যে, কোরান সূরা ফাতিহা‌য় সুরক্ষিত?? উত্তর সহজ- তা না হলে সূরা ফাতিহা‌কে أُمِّ الْكِتَابِ (উম্মুল কিতাব‌‌) বলা হল কেন??
প্রশ্ন হবে- কিভাবে, তা কি প্রমাণ করতে পারবেন?? উত্তর সহজ- হোসেন কুরানী পারে না, এমন কিছু আছে কি?? তবে, তা প্রমাণিত ভাবে দেখার জন্য আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে। হয়ত পরবর্তী পর্ব সমূহে পেতে পারেন, নয়ত ব‌ই আকারে কখনও প্রকাশ করব- ইনশা আল্লাহ!!
যাইহোক, এবার আমরা পূর্ব প্রসঙ্গে ফিরে আসতে চাইছি। তা হল- 18, মনে আছে তো?? আমরা 18 এর ব্যাখ্যা তো করব‌ই, কিছু প্রশ্নের উত্তর বাকি রয়ে গেছে, সেই উত্তর গুলো দিয়ে দিই, না কি??
প্রশ্ন হবে- 18 টি হারাফ সংখ্যা‌য় গঠিত আয়াতে 4 টি শব্দ কেন এবং 18 টি শব্দে গঠিত প্রার্থনা‌র আয়াত 4 টি কেন?? উত্তর সহজ- হোসেন কুরানীর জন্য, অন্যের জন্য কঠিন!!
আরও একটা প্রশ্ন- মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ, জান্নাত ও জাহান্নামের অস্তিত্ব সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ কি কোরানের গভীরে দৃষ্টি‌র পর্ব সমূহে আলোচনা করা হবে?? উত্তর সহজ- অবশ্যই, শুধু মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ, পুনুরুত্থান, জান্নাত ও জাহান্নাম‌ই নয় বরং জান্নাত ও জাহান্নাম কেমন হবে, তাও বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণ করে দেখিয়ে দেব- ইনশাআল্লাহ!!
কিন্তু এখন সমস্যা হল- লেখাটি আকারে বিরাট বড় হয়ে যাচ্ছে। তাই আমরা এখানে‌ই শেষ করতে চাইছি। আমরা পরবর্তী পর্বে/ পর্ব সমূহে এ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেব- ইনশাআল্লাহ!!
আচ্ছা হ্যাঁ, আপনি যদি সরা-সরি এই পর্বটি (পর্ব- 2) পড়েন, তাহলে লেখাটি পড়ে বুঝে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। সুতরাং গত পর্বটি আগে পড়ে নিন, তাহলে বুঝতে সুবিধা হবে। দেখুন-
আচ্ছা পাঠক, এই লেখাটা পড়তে পড়তে বা পড়ার পর কি করবেন?? দুয়া করবেন আমার/ আমাদের জন্য, আবার কি করবেন?? ওওওও আচ্ছা, আরও কিছু করার ইচ্ছা আছে?? Team Quranic universe কে অর্থ দ্বারা নৈতিক সাহায্য করতে পারেন!!
প্রকাশ‌কাল : 01.03.2021
আশা করছি, বোঝাতে পারলাম এবং আরও কঠিন কঠিন প্রশ্ন থাকলে, পাঠান- ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা করব সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।
© : লেখক, হোসেন কুরানী।

কোরানের গভীরে দৃষ্টি ও কুরানী বিশ্লেষণ, পর্ব- 2

  আচ্ছা পাঠক, আপনি কি পর্ব- 1 পড়েছেন?? কেমন লেগেছে আপনাকে?? আমাকে গালা-গালি করেছেন তো?? হায় আল্লাহ, আমাকে গালা-গালি করেন নি?? যান, ...